আশা জাগিয়েছে রাজশাহীর ‘প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার’

রাজশাহী:
আশা জাগিয়েছে রাজশাহীর ‘প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার’। এবছর পরীক্ষামুলকভাবে এই হিমাগারটি চালু করা হয়। চলতি মৌসুমে আম, আলু, পিয়াজ, রসুনসহ অন্যন্য সবজি সংরক্ষনে আশানুরুপ ফল পাওয়ায় এই হিমাগার তৈরীর চাহিদা বাড়ছে।
সাধারত একটি হিমাগার বানানোর জন্য কোটি টাকার হিসেব কষতে হয়। প্রতি মাসে গুনতে হয় মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল। আর একারণে বড় ধরনের উদ্যোক্তা ছাড়া হিমাগার বানানোর কথা ভাবতেই পারেননা। অন্যদিকে, চাহিদার তুলনায় হিমাগারের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় আলু রাখার জন্য প্রতি মৌসুমেই প্রতিযোগিতায় নামতে হয় আলু চাষি ও ব্যবসায়িদের। এ অবস্থার পরিবর্তনের আশা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন নগরীর নামো ভদ্রা এলাকায় প্রাকৃতিক সংরক্ষনাগার তৈরী করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সহায়তায় মাত্র ১৪ লাখ টাকা দিয়ে পরীক্ষামুলকভাবে নির্মিত এই হিমাগারটি এখন আশার আলো দেখিয়েছে ছোট উদ্যোক্তাদের। এই হিমাগারের উদ্যোক্তা এম মনজুর হোসেন জানান, যে লক্ষ্য নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে তা সফল হয়েছে। প্রথম বছর এখানে আলু ছাড়াও আম, পিঁয়াজ, রসুন, আদা রাখা হয়েছিলো। ফলাফল ভালো পাওয়া গেছে। তবে, পিঁয়াজের সাথে অন্য কোন শস্য রাখলে সেটি বেশিদিন রাখা যাবেনা। একারণে ঁিয়াজ, রসুন, আদা একসাথে রাখলে ফল ফল পাওয়া যাবে। আবার আলু, আম বা অন্য শাক সবজি রাখলে সেগুলোও বেশ কিছুদিন রাখা সম্ভব হবে। আলু আটমাস পর্যন্ত এখানে সংরক্ষন করা যাবে। এবছর আলু এবং পিঁয়াজ সংরক্ষন করে বেশ লাভবান হওয়া গেছে।
তিনি জানান, বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানি বন্ধ এবং সেই সাথে দেশে আলুর অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধ করে ন্যয্যমুল্য নিশ্চিত করতে এই হিমাগার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে । কারণ পিঁয়াজেন দাম এবছর যেমন ভালো পাওয়া গেছে আগামীতেও ন্যায্য দাম পেলে অনেকেই পিঁয়াজ চাষে আগ্রহি হয়ে উঠবে। আর একারনে আলুর আবাদ কিছুটা কমতে পারে। এই সময়ে ্অলুর অতিরিক্ত চাষ যেটা হচ্ছে তা নিয়ন্তন করা সম্ভব হবে। এক বছর আগে হিমাগারটি চালুর পর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনেকেই খোঁজ নিয়েছেন, আগ্রহ দেখিয়েছেন। এরই মধ্যে অনেকেই এগিয়ে এসেছে প্রাকৃতিক হিমাগার বানানোর জন্য। প্রতিদিনই আগ্রহীরা আসছেন এই হিমাগার দেখতে। অনেকেই ফোনে জানছেন কিভাবে বানানো যাবে, লাভ ক্ষতির হিসেব জানছেন তারা।
এদিকে, এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে এগিয়ে এসেছে ব্যাংকগুলো। প্রাকৃতিক হিমাগার গড়তে সব ধরনের সহায়তার ঘোষনা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংকের রাজশাহী আঞ্চলিক প্রধান ওয়াসিফ আলী খান জানান, এবছর কয়েকজন এই হিমাগার করতে উদ্যোগি হয়েছেন তাদেরকে আমরা আর্থিকভাবে সহায়তা দিচ্ছি। তিনি জানান, পরীক্ষামুলক হিমাগারটি বানাতে ১৪ লাখটাকা খরচ হয়েছে, তবে আমরা অভিজ্ঞতা থেকে জানতে পেরেছি এটি এখন ১০ লাখ টাকাতেও সম্ভব। আর এই পুরো টাকা আমরা ব্যাক থেকে দিতে চাই। আগ্রহীরা আসলেই সহযোগিতা করা হবে।
অল্প খরচে সুরক্ষা: ড. মনজুর হোসেন জানান, এই হিমাগারে কৃষক অল্প খরচে ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ৮৫ কেজির এক বস্তা আলু এখন হিমাগারে রাখতে কৃষকের ৩৫০ টাকা লাগে। এই সংরক্ষণাগারে লাগবে মাত্র ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। দেশে আদা ও পেঁয়াজের কোনো সংরক্ষণাগার নেই। এ জন্য কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ ও আদা ৬০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এই সংরক্ষণাগারে আদা, পেঁয়াজ ছাড়াও এক মাসের জন্য মরিচ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি সংরক্ষণ করা যাবে।
নকশা নির্মাণ সামগ্রী: সংরক্ষণাগারটি তৈরি করতে সময় লাগে ছয় মাস। ৩০০ টন ধারণক্ষমতার তিনতলাবিশিষ্ট এই হিমাগারের আয়তন এক হাজার ৭০০ বর্গফুট। বাইরের আয়তন ৬০ বাই ৩০ ফুট। আর ভেতরের ৫৮ বাই ২৮ ফুট। তৈরির উপকরণ হচ্ছে বাঁশ, খড়, টালি, বালু ও সিমেন্ট। এর মধ্যে বাঁশ হচ্ছে ৬০ ভাগ। ১২ ভাগ খড় আর বাকি অংশ ইট-বালু-সিমেন্ট। হিমাগারের ছাউনি দেওয়া হয়েছে খড়ের। দেয়াল তৈরি করা হয়েছে ইট দিয়ে। দেয়াল প্লাস্টার না করে তার ওপর টালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিটি কাজ করে যেভাবে: দেয়াল ও টালির মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফাঁকা অংশে বালু, চারকোল ও পানি থাকবে। এখান থেকে জলীয় বাষ্প তৈরি হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঘরের ভেতরের তাপ শোষণ করা হবে।
হিমাগারের ভেতরে তিনতলাবিশিষ্ট বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। ওপরে ওঠার জন্য বাঁশের সিঁড়ি বানানো হয়েছে। নিচতলা থেকে ঠান্ডা বাতাস যাতে প্রাকৃতিক উপায়ে ওপরে উঠে যায়, সে জন্য দেয়ালের নিচের দিকে একটু করে ফাঁকা রাখা হয়েছে। সেখান দিয়ে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা বাতাসকে ঠেলে ওপরে নিয়ে যাবে।
হিমাগারের ভেতরে যাতে অন্ধকার না হয়, সে জন্য তৃতীয় তলার ওপরে দুই পাশে দুটি কাচের জানালা আছে। আর কখনো নিচের ঠান্ডা বাতাস যদি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওপরে না ওঠে, সেই ঠান্ডা বাতাস ওপরে তোলার জন্য দুটি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ফ্যান সোলার প্যানেলের সাহায্যে চালানো হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mis Ainak Region 497/6 * v Amo Region 297/10

Band-e-Amir Region 502/8 v Boost Region 202/5 & 196/10 *

Australia 203/3 * v England 403/10

KwaZulu-Natal Inland 195/10 v Gauteng 305/7 *

Northern Cape 31 & 286/10 * v Northerns 442/10

Western Province 424/10 v KwaZulu-Natal 75/10 & 61/3 *

Easterns 433/8 v Eastern Province 126/10 & 134/10 *

Free State 315/10 v Boland 238/10 & 82/5 *

Trinidad & Tobago v Barbados 267/5 *

Guyana 276/8 * v Leeward Islands

Windward Islands 226/9 v Jamaica 33 *

Sri Lanka Army Sports Club 197/7 * v Sri Lanka Ports Authority Cricket Club

Colombo Cricket Club v Moors Sports Club 213/2 *

Colts Cricket Club v Ragama Cricket Club 90/2 *

Sinhalese Sports Club 380/4 * v Saracens Sports Club

Chilaw Marians Cricket Club 293/10 * v Burgher Recreation Club

Nondescripts Cricket Club 125/2 * v Tamil Union Cricket and Athletic Club 117/10

Bengal Tigers 105/7 * v Punjabi Legends 99/6

Maratha Arabians 55/1 * v Team Sri Lanka 125/4

Kerala Kings v Punjabi Legends

Pakhtoons v Team Sri Lanka

Sydney Thunder Women v Melbourne Stars Women

Melbourne Renegades Women v Adelaide Strikers Women

Northern Districts v Auckland