খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়

খালেদা জিয়ার সংলাপের আহ্বান নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের এত রাজনৈতিক সংকট পড়ে নাই, এত দৈন্যতাও হয় নাই যে, একজন খুনির সঙ্গে বসতে হবে যে মানুষ পুড়িয়ে মারে। দয়া করে আমাকে ওই খুনি মানুষের সঙ্গে বসতে অনুরোধ করবেন না। কারণ বসলেই পোড়া গন্ধ পাব। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সংলাপে বসার সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য বিএনপি নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী দুটি শর্তও দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, উনি বলুক- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সমর্থন করেন। উনি বলুক- যুদ্ধাপরাধের যে বিচার হচ্ছে, তা সঠিক হচ্ছে। যেদিন উনি বলবেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত, সেদিন উনি বসার যোগ্যতা পাবেন। আগে সে কথাটা আনান উনার মুখ থেকে, তাদের (জামায়াত) সঙ্গ ছাড়তে বলেন। তারপর ভেবে দেখা যাবে।
নেদারল্যান্ডসে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়ে অবহিত করার এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার করতে চাপ দেয়া হচ্ছে। চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে অনিরাপদ প্রমাণ করতে ব্যস্ত, যেন কোনোভাবে বাংলাদেশে ঢুকে হামলা করা যায়। কিন্তু কোনো চাপে মাথা নত করা হবে না। সংলাপে নিজের আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যার হাতে মানুষ পুড়ে, তার সঙ্গে বসার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমি অনেক টলারেট করেছি। রাজনীতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন করা ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর গুলশানের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি কারো বাড়িতে গেলে, সে যদি আপনার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়, তাহলে কি আপনি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন? উনার ছেলে মারা গেল তখন আমি গেলাম, উনি ঢুকতে দিলেন না। আমি রাজনীতি করি, আমার একটা দল আছে, দেশ আছে। নির্বাচনের আগে অফার দিয়েছিলাম, আসেন সর্বদলীয় সরকার গঠন করি। উনি কি এসেছিলেন? তার উত্তর কি দিয়েছিলেন? যখন সত্যিকারভাবে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করার সুযোগ এসেছিল তখন সাড়া দেননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন উনার (খালেদা) সঙ্গে বসতে গেলেই পোড়া মানুষের গন্ধ পাবো। নির্বাচন বর্জনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, পিটিয়ে মানুষ হত্যা করাসহ কোন ধরনের কাজ না করেছে? ২০১৫ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারল।
খালেদা জিয়ার সংলাপ আহ্বান এবং দেশের সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার মাঝে যোগসূত্র রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ হত্যা করে উনি বলছেন, জাতীয় সংলাপ হলে সংকটের সমাধান হবে। তার মানে এ সবে উনার হাত আছে। হয়তো বা উনার গুণধর পুত্র লন্ডনে বসে পাকাচ্ছেন। উনার বক্তৃতা-বিবৃতিতে যেখানে উনি জাতীয় সংলাপের কথা বলছেন, সেখানে আমাকে কী নামে অভিহিত করছেন সেটাও আপনাদের মনে আছে? উনি এই নামে অভিহিত করেন আবার বসতেও চান, এটা আবার কেমন কথা? খালেদা জিয়ার কথার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে গেছে যেখানে যেটা ঘটছে তার (ঘটনা) সঙ্গে তার (খালেদা) একটা সংযোগ আছে। এটা যে তারই উৎসাহে হচ্ছে এটা তো স্পষ্ট।
সাম্প্রতিক বিদেশি হত্যা ও কিছু দেশের সতর্কতা জারি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ফ্লোরিডায় মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। কেন এই প্রবাসীকে সেখানে হত্যা করা হলো, সে প্রশ্ন কি আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে কেউ করতে পারবেন?
তিনি বলেন, এখন সাম্প্রতিক বিদেশি হত্যা নিয়ে কেউ বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যদি প্রশ্ন তোলে, তবে, এ দেশে আইএস আছে বলে প্রমাণ করতে যারা চক্রান্ত করছে তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলা হবে। বাংলাদেশের কেউ কি এটি প্রমাণ করতে চান? বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ দেশ, কোনোভাবেই অনিরাপদ নয়। শেখ হাসিনা বলেন, চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে অনিরাপদ প্রমাণ করতে ব্যস্ত, যেন কোনোভাবে বাংলাদেশে ঢুকে হামলা করা যায়। কিন্তু আমরা কি তাদের সে সুযোগ করে দেব?
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ মেরে যখন উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি, তখন এবার গুপ্তহত্যা চালানো হচ্ছে। এদেশে আইএস আছে বলে প্রমাণের চেষ্টা চলছে। যদি তা প্রমাণ করা যায়, তাহলে কী হবে সেটা আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার কথা ভাবলেই হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে দেশের একটি গোষ্ঠীও এ চক্রান্তে লিপ্ত। দেশবাসী যদি সচেতন না হন তাহলে সর্বনাশ।
সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা তো দেখছি কারা করছে? যারা ঘটাচ্ছে তারা ধরা পড়ছে। তাদের পরিচয়ে দেখা যাচ্ছে ছাত্র জীবনে হয় জামায়াত না হয় বিএনপি করেছে। তিনি বলেন, আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি তখন বাংলাদেশ অনিরাপদ-অনিরাপদ বলে একটা আওয়াজ তোলার চেষ্টা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-আইএস নামে একটা আর্টিফিসিয়াল (ভিত্তিহীন) গোলমাল তৈরির চেষ্টা করছে। ইমামবাড়ায় হামলা করে শিয়া-সুন্নি গোলমাল দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তো এমন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় জঙ্গি উত্থান হয়েছে, সেটা আমরা দমন করেছি। আবার সরকার উৎখাতের নামে জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা করার পরও যখন দেখল কাজ হচ্ছে না তখন গুপ্তহত্যায় নেমে পড়েছে একটি মহল। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালে এ নাশকতা চলছে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো বাধাই এই বিচার ঠেকাতে পারবে না।
জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন বন্ধে তাদের শনাক্ত করতে কিছু ‘অ্যাপ’ বন্ধ করাসহ ইন্টারনেটের ওপর ‘সাময়িক কড়াকড়ি’ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যা ও হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ‘শুভফল’ যেমন আছে, ‘খারাপ ফলও’ আছে। এত বেশি আমরা সেই থ্রি-জিতে, ফোর-জিতে চলে গেছি…ইন্টারনেট-ভাইবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে এই জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখব, এটা যদি খুব বেশি-ই করে, হয়তো একটা সময়ের জন্য, কিছুদিনের জন্য অন্তত এটা আমরা বন্ধ করে দিয়ে… এই লিংকগুলো যাতে ধরা যায়।
এ ধরনের হামলার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থায়নমূলত একটি দল করছে, আর মাঠে খুন খারাবির কাজ আরেকটা দল করছে। এর বেশ কিছু তথ্য আছে, আরো তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা হচ্ছে। জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।
নিরাপত্তা নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথায় আছে বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। সবাইকে সাহস রাখতে হবে। খুনের কত তালিকা হয়। ১৯৮১ সালে যেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম, সেদিন থেকেই সব তালিকার শীর্ষে রয়েছি আমি। আমি তো ভীত নই। এমনিতেই গভীর চক্রান্ত চলছে এ দেশকে অনিরাপদ প্রমাণ করতে। নিজেরা সতর্ক-সাহসী না হলে চক্রান্তকারীদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু নিরাপত্তা দেয়া দরকার, সেটা দেয়া হচ্ছে। যখনই যেখানে যা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এখন কোথাও যদি সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে তাদের ধরতে সাংবাদিকসহ সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Essex 206/10 v Nottinghamshire 380/10 & 35/1 *

Glamorgan 283/10 v Derbyshire 207/3 *

Kent 359/6 & 197/10 * v Warwickshire 125/10

Leicestershire/1 & 427/10 * v Middlesex 233/10

Surrey 459/10 v Somerset 180/10 & 18 *

Sussex 552/10 v Durham 202/4 *

Worcestershire 361/4 & 247/10 * v Lancashire 130/10

Northamptonshire 282/10 v Gloucestershire 155/5 & 62/10 *

Hampshire 153/3 * v Yorkshire 350/10

England 100 * v Australia 310/8