গুজবে কমছে দেশী গরুর দাম

ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু আসবে দেশের অভ্যান্তরে এমন গুজবে এবার কমতে শুরু করেছে দেশী গরুর দাম। গত সপ্তায় যে গরু বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ হাজারের মধ্যে। এর ফলে হতাশ হয়ে পড়েছে গরু খামারিরা।
সূত্র মতে, প্রতিবছর ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক এবং এ অঞ্চলের গরু খামারিরা পূর্ব থেকে গরু মোটা-তাজা করে ঈদে বিপুল অংকের ব্যবসা করে থাকেন। যার কমতি নেই এবারও। কিন্তু হটাৎ করেই গুজব উঠেছে আগত ঈদ উপলক্ষে এবার রাজশাহীর বাঘা সীমান্তসহ ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে গরু প্রবেশ করবে। আর এই গুজবে মাত্র এক সপ্তার ব্যবধানে হাটে প্রচুর পরিমান গরুর আমদানি বেড়েছে। এর ফলে কমতে শুরু করেছে গরুর দাম।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা’র একটি অংস নিয়ে সপ্তাহ জুড়ে এই অঞ্চলে গরুর হাট বসে। এরমধ্যে রাজশাহীর সিটি হাটসহ পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের হাট বসে প্রতি শনিবার, বাঘা’র রুস্তমপুরে বুধবার এবং চন্ডিপুরে হাট বসে শুক্রবার। অপরদিকে নাটোর জেলার তেবাড়িতে হাট বসে প্রতি রবিবার ও গোপাল পুরে সোমবার। এছাড়াও পাবনার অরণ কোলায় হাট বসে প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার।
সরেজমিন শুক্রবার বাঘার চন্ডিপুর গরুহাট ঘুরে দেখা গেছে, বেচা-বিক্রি ভালই জমে উঠেছে। সকাল থেকে গরু-ছাগল আসতে শুরু করছে হাটে। এরপর একটানা বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলছে অসংখ্য গরু-ছাগলের আমদানি ও বেচা-বিক্রী। বিক্রেতারা বলছেন, এবছর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু আমদানি হবে এমন গুজবে ঈদ আসতে প্রায় একমাস দেরি থাকার পরেও আমদানি বেড়েছে। এর ফলে কমতে শুরু করেছে পশুর দাম। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসছেন বাঘার দু’টি গরু হাটে।
এরআগে গত বুধবার রুস্তমপুরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন মূল্যের গরু-ছাগলের আমদানি ও বেচা-বিক্রিও ছিল লক্ষণীয়। ক্রেতারা জানান, এবার সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আমদানি হচ্ছে এই গুজরে ১০ দিন পূবে যে গরু বিক্রি হয়েছে ৭০ হাজার টাকা তা এখন পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজারের মধ্যে।
বাঘার চরাঞ্চলের গরু খামারি আব্দুর রহমান জানান, এবার ঈদে গরু বিক্রি করে অনেক লাভ করার স্বপ্ন দেখে ছিলাম। কিন্তু ভারত থেকে গরু প্রবেশের যে গুজব উঠেছে তাতে করে সেই স্বপ্ন ম্লান হতে বসেছে। তার মতে, যদি সরকার সত্যি-সত্যিই এ কাজটি করে থাকেন তাহলে গরু লালন-পালনের দিকে খামারিদের যে আগ্রহ ছিল তা আগামিতে হারিয়ে যাবে।
ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা ব্যাপারী আব্দুর রহমান জানান, গরুর ব্যবসা অনেকটা ভাগ্যের উপরেও নির্ভর করে। তিনি বলেন, গত বছরে আগের বার ঈদুউল আযহার পূর্বে তিনি ৮০টি গরু কিনে ব্যবসায় লচ করেছিলেন। কারণ সেইবার গরু আমদানি অনেক বেশি ছিল।
এদিক থেকে তিনি গতবার ৪৫টা গরুতে খরচ বাদে প্রায় তিন লক্ষ টাকা লাভ করেছেন। এ কারণে এবারও পূর্ব থেকে গরু কেনার চেষ্টায় আছেন। তিনি ক্ষোবের সাথে জানান, উত্তরাঞ্চলে পশুর দাম কম। তবে কেনার পর ঢাকায় নিতে রাস্তায় পুলিশের চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নেতাদের টোল দেয়ায় লাভের অংশ ফুরিয়ে যায়। এজন্য তিনি এ বছর পূর্ব থেকে কতৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহবান জানান।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

England 184/10 & 235/6 * v Pakistan 363/9

Armed Police Force Club 166/4 * v Province Number 4 239/9

Province Number 6 77/10 * v Province Number 7 125/10

Matabeleland Tuskers 39/4 * v Mid West Rhinos

Rising Stars 159/5 * v Mountaineers

Leicestershire v Yorkshire

Northamptonshire v Durham

Nottinghamshire v Warwickshire

Worcestershire v Lancashire

Essex v Surrey

Gloucestershire v Sussex

Hampshire v Kent

Somerset v Middlesex

Chennai Super Kings v Sunrisers Hyderabad