জনগণের পরম বন্ধুর পরিচয় দিতে হবে: সারদা পুলিশ একাডেমীতে প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পুলিশের সকল সদস্যকে ঔপনিবেশিক ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। জনগণের পরম বন্ধুর পরিচয় দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষ তার চরম বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই আইনী সেবা দিয়ে গণমানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনমানুষের দোরগোড়ায় পুলিশী সেবাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা পুলিশ ফোর্সকে সার্ভিসে রূপান্তরের লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পর্যায়ে ৩২ হাজার এবং ২য় পর্যায়ে ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নে ২৭টি নতুন ব্যারাক, ৬২টি ফাঁড়ি, ৭৩টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ৩৮টি মহিলা ব্যারাক, আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ, ১৭১টি নতুন থানা ভবন নির্মাণ, ৪৫ জেলায় পুলিশ সুপারদের অফিস ভবন উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে সিআইডির ৪৫টি নতুন অফিস স্থাপন, ৫০টি হাইওয়ে আউট পোস্ট, ১২টি র‌্যাব কমপে¬ক্স, ১টি র‌্যাব ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স, পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ২১টি থানাকে মডেল থানায় রূপান্তর এবং ৬টি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নির্মাণসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাইবার ক্রাইম তদন্তে দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি যুগোপযোগী আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি।বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৩ টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১ টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তার পরেও দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়। সেদিক লক্ষ রেখে আরো ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির স্বিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়াও ইতিমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ সম্পন্ন্য হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই যুগে অপরাধ তদন্তে যুগোপযুগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অপরাধ দমন ও উদঘাটন সম্ভব নয়। তাই সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। অপরাধ ও অপরাধী সনাক্তকরণে পুলিশের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণে আমরা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আধুনিক ও যথাযথ মানসম্পন্ন করার জন্য জনবল বৃদ্ধিসহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে চলেছি।’
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশিল করার অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর কঠোরতার কারনে তাদের সব ধরনের অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। বিএনপি-জামায়াত সব সময় পুলিশকে টার্গেট করে। কারন একটাই, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করতে পারলে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা। বার বার পুলিশ বাহিনীর উপর আঘাত আসার পরেও পুলিশ সাহসের সাথে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করেছে।
নাশকতা মোকাবেলায় সম্প্রতি বছর গুলোতে আইন র্শংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ জন বীর সদস্য জীবন দিয়েছেন। যার মধ্যে ১৭ জনই পুলিশ সদস্য। সংবিধান, গনতন্ত্র, আইনের শাসন রক্ষার জন্য পুলিশের এ আত্মত্যাগ এক বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের জনগন পুলিশের এই অবদান গভীর ভাবে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে এনেছি। এদেশে সংবিধানকে সমুন্নত করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা জঙ্গীবাদ শক্তহাতে দমনের মাধ্যমে এ দেশের আভ্যন্তরীন শান্তি-শৃঙ্খলা বিনাশের সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করতে শতভাগ সমর্থ হয়েছি। পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে চরমপন্থীদের আইনের আওতায় আনতে পেরেছি। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দমনেও আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা ছিল জনগণের কাছে আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। ইতোমধ্যে কিছু রায় কার্যকর হতে শুরু হয়েছে। ইনশাআল¬াহ্ একে একে সকল যুদ্ধপরাধীর বিচার এদেশের মাটিতে সম্পন্ন করা হবে।
শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, আইন-শৃঙ্খলার মত জনগুরুত্ব সম্পন্ন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের সেবার মান কাক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। মৌলিক ও মানবাধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’
সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয়ী হই।’
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে ২৬ জন নারীসহ মোট ১৬১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এ সময় ১ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষনে অশ্বারোহনে প্রথম স্থান অধিকারী নবীন সহকারী পুলিশ সুপার পংকজ বড়–য়া, একাডেমিক্সে রেজওয়ানা চৌধূরী এবং সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য পংকজ বড়–য়াকে পদক প্রদান করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। অনুষ্টান শেষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘তরুণিমা’ এবং প্যারেড গ্রাউন্ডের নবনির্মিত গ্যালারীর উদ্বোধন করেন।
পরে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা নদীর তীরে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘ঊর্মি’ উদ্বোধন শেষে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোকচিত্র গ্রহণে অংশ নেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Border 361/10 v Namibia 157/10 & 54/2 *

Western Province 83/4 & 215/10 * v Northerns 188/10

Gauteng 266/6 & 149/10 * v Boland 119/10

Guyana 116/1 * v Trinidad & Tobago 135/10

Barbados 261/2 * v Jamaica

Leeward Islands 93/2 * v Windward Islands 197/10

Australia 270/9 v England 274/6 *

Galle Cricket Club v Panadura Sports Club

Kalutara Town Club v Lankan Cricket Club 420/4 *

Negambo Cricket Club 178/10 v Police Sports Club 71/4 *

Sri Lanka Air Force Sports Club v Kurunegala Youth Cricket Club 152/3 *

Ragama Cricket Club 312/9 * v Bloomfield Cricket and Athletic Club

Saracens Sports Club 347/5 * v Colombo Cricket Club

Sinhalese Sports Club 199/10 v Moors Sports Club 124/7 *

Burgher Recreation Club 106/1 * v Sri Lanka Army Sports Club 232/10

Nondescripts Cricket Club 42 * v Badureliya Sports Club 147/8

Sri Lanka Ports Authority Cricket Club v Chilaw Marians Cricket Club 335/2 *

Bangladesh 320/7 v Sri Lanka 157/10 *

Cape Cobras 230/3 * v Lions

Dolphins 186/9 * v Warriors

Knights v Titans 282/4 *

Afghanistan Under-19s v Ireland Under-19s

Kenya Under-19s v West Indies Under-19s

Canada Under-19s v England Under-19s

New Zealand Under-19s v South Africa Under-19s

Melbourne Stars Women v Melbourne Renegades Women

Northern Districts v Central Districts

Sydney Thunder Women v Adelaide Strikers Women

Melbourne Stars v Sydney Thunder