পাত্তা পেলোনা জিম্বাবুয়ে

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হওয়া সেই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি মিলল না জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশ সফরেও শুরুটা হল যাচ্ছেতাই। ব্যাটে-বলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে ১৪৫ রানের বিশাল ব্যবধানে প্রথম ওয়ানডে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।
২৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকেন চামু শিভাভা ও লুক জঙ্গে। উদ্বোধনী জুটিতে ৯.১ ওভারে ৪০ রান তোলা জিম্বাবুয়েকে প্রথম ঝটকা দেন সাকিব আল হাসান। লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে ২৩ বলে ৯ রান করে ফিরে যান শিভাভা। একটু পরে আবারো হন্তারকের ভূমিকায় সাকিব। নাসিরের ক্যাচে ক্রেইগ আরভিনকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসান সাকিব। পরের ওভারেই আবারো টাইগারদের আক্রমণ। ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা লুক জঙ্গেকে ফিরিয়ে বড় বাধা দূর করেন আল আমিন হোসেন। পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে ৫১ বলে ৩৯ রান করে উইকেটের পিছনে ধরা পড়েন জঙ্গে।
সেখান থেকে দলের রানকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা ও শন উইলিয়ামস। কিন্তু ১৮তম ওভারের শেষ বলে উইলিয়ামসকে বোল্ড করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন সাকিব আল হাসান।
এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিকান্দার রাজা ও ম্যালকম ওয়েলারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান দেশসেরা এই পেসার। রাজা ৩ ও ওয়েলারের ব্যাট থেকে আসে ১ রান।
জিম্বাবুয়ের হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন অধিনায়ক চিগুম্বুরা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি যখন আউট হন তখনো তার দল বাংলাদেশ থেকে ১৪৫ রানে পিছিয়ে। শেষ পর্যন্ত ৩৬.১ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুইয়ানদের ইনিংস। গোড়ালির ইনজুরির কারণে অবশ্য ব্যাট করতে পারেননি রিচমন্ড মুতুম্বামি।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম বার ৫ উইকেট শিকারের স্বাদ পেলেন এই বাহাতি। ১০ ওভার বল করে ৪৭ রান খরচায় সাকিবের শিকার ৫ উইকেট শিকারের পাশাপাশি মাশরাফির ২ এবং আল আমিন ও নাসির হোসেনের ১টি করে উইকেট শিকারে ১৪৫ রানের বিশাল জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মি. ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমের শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মাশরাফিবাহিনী। দলীয় ৩০ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সাজঘরে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে নেন তিনাশে পানিয়াঙ্গারা।
তবে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। দলের রান যখন ঠিক ১০০ তখনই আঘাত হানেন সিকান্দার রাজা। ৬৮ বলে ৪০ রান করা তামিমকে ফিরিয়ে বিপদে ফেলে দেন টাইগারদের। এরপর সাকিবও দ্রুত ফিরে গেলে হাল তরুণ সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মি. ডিপেন্ডেবল। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১৯ রান যোগ করে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেন মুশফিক-সাব্বির। ৫৮ বলে ৫৭ রান করে রান আউটের শিকার হয়ে সাব্বির ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক তুলে নেন মুশফিক। ১০৯ বলে ১০৭ রান করে তিনিও ফিরে যান দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হয়ে। শেষের দিকে মাশরাফি ও আরাফাত সানির ছোট দুটি ক্যামিওতে ভর করে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মাশরাফি ৮ বলে ১৪ ও সানি করেন ৮ বলে ১৫ রান। তাউরাই মুজারাবানি ও সিকান্দার রাজা নেন দুটি করে উইকেট।
বল হাতে সাকিবের অনন্য অর্জনের দিনে অবশ্য আলোটা নিজের দিকেই বেশি টেনে নিলেন মুশফিক। ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মুশফিকুর রহিম। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগামী ৯ নভেম্বর আবারো মুখোমুখি হবে দু’দল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Easterns 154/10 & 184/10 v Namibia 122/3 & 128/10 *

KwaZulu-Natal 140/10 & 158/4 * v North West 188/10 & 135/10

West Indies A 137/10 v Sri Lanka A 294/10 & 213/6 *

Hong Kong 142/10 v Afghanistan 270/2 *

Mis Ainak Region 167/10 v Band-e-Amir Region 202/3 *

Speen Ghar Region 311/2 * v Amo Region

Bangladesh A v Ireland A

Western Australia v South Australia

Zimbabwe v West Indies

Limpopo Women v Easterns Women

South Western Districts Women v Eastern Province Women