ফ্রাঙ্কফুর্টে শেষ ঠিকানা’র ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা

জার্মানি থেকে হোসাইন আব্দুল হাই, ফ্রাঙ্কফুর্ট:
ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামাজিক সংগঠন ‘শেষ ঠিকানা’র উদ্যোগে শনিবার জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট নগরীতে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

শেষ ঠিকানা’র সভাপতি মোঃ আবু সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা উপস্থাপন করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইদ হাসান মিয়া। সভার শুরুতে জনাব মিয়া বিগত অর্থ-বছরে শেষ ঠিকানা’র গৃহীত পদক্ষেপ এবং কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত সময়ে যেসব বাংলাদেশী প্রবাসী মারা গেছেন এবং যাদের মৃতদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে তাঁদের নাম এবং ঘটনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া এমনকি জার্মানির কোবলেন্স নগরীতে একজন বাংলাদেশীর মৃতদেহ কারো কাছে হস্তান্তর করার কোন সুযোগ না খুঁজে পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে আগুন দিয়ে পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। এই খবর পাওয়ার পর শেষ ঠিকানা’র কর্মকর্তাবৃন্দ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেই মৃতদেহটি দেশে পাঠিয়েছিলেন।

এই ঘটনার প্রশংসা করে সংগঠনটির সদস্যবৃন্দ জোর দেন, যেন কোন বাংলাদেশী প্রবাসীর দেহ এখানে আগুনে পোড়ানো না হয়। এমনকি সেই মৃত ব্যক্তি শেষ ঠিকানা’র সদস্য না হলেও তাঁর জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন জার্মান-বাংলাদেশ সমিতি মাইন্স এর সভাপতি এবং জার্মান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউনুস আলী খান, সমাজসেবী সৈয়দ আহমেদ সেলিম, সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহের ভুঁইয়া, সদস্য নাছির উদ্দিন, আমজাদ হোসেন, কায়সার, ইমদাদুর রহমান খান রিজভী, আজহারুল করিম মোসাদ্দেক, হাবিবুর রহমান রমজান, আব্দুল হক এবং নুরুল ইসলাম।
একান্ত সাক্ষাৎকারে জনাব ইউনুস আলী খান বলেন, „শেষ ঠিকানা“ একটি মহান মানবিক উদ্যোগ। বিগত চল্লিশ বছরে অসংখ্য বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃতদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে নানা বিব্রতকর এবং অসহায়ত্বের শিকার হলেও, শেষ পর্যন্ত আবু সেলিম বেশ কিছু সমমনা প্রবাসীদের নিয়ে প্রায় এক যুগ আগে এই মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলে বর্তমানে বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য মৃত্যুর পরে এক নিশ্চিন্ত ঠিকানার বন্দোবস্ত হয়েছে, যা অন্যান্য প্রবাসী জাতিগোষ্ঠীর জন্যও উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
সাংস্কৃতিক পর্বে কবিতা পরিবেশন করেন ইমদাদুর রহমান খান রিজভী এবং সাংবাদিক হোসাইন আব্দুল হাই।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ৬ই জুলাই ফ্রাঙ্কফুর্ট নগরীতে আত্মপ্রকাশ করে সামাজিক সংগঠন শেষ ঠিকানা। প্রবাসে যেসব বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ করেন তাঁদের দেহ দেশে পৌঁছান এবং সৎকার করার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ব্রত নিয়ে গড়ে তোলা হয় শেষ ঠিকানা। এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য আগ্রহী প্রবাসীদেরকে নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে সদস্য হতে হয় এবং সদস্য হওয়ার পর থেকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৮৩।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Easterns 154/10 & 184/10 v Namibia 122/3 & 128/10 *

KwaZulu-Natal 140/10 & 158/4 * v North West 188/10 & 135/10

West Indies A 137/10 v Sri Lanka A 294/10 & 213/6 *

Hong Kong 142/10 v Afghanistan 270/2 *

Mis Ainak Region 167/10 v Band-e-Amir Region 202/3 *

Speen Ghar Region 311/2 * v Amo Region

Bangladesh A v Ireland A

Western Australia v South Australia

Zimbabwe v West Indies

Limpopo Women v Easterns Women

South Western Districts Women v Eastern Province Women