বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হননি সুভাষ বসু

সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হলো ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সংক্রান্ত ৬৪টি গোপন ফাইল। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে শুক্রবার এই নথি প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। দুটি সিডি আকারে এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এতদিন পশ্চিমবঙ্গের মহাফুজখানায় নেতাজিসংক্রান্ত এই ‘গোপন’ নথিগুলো সংরক্ষিত ছিল।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মানিকতলায় কলকাতা পুলিশ মিউজিয়ামে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে নেতাজিসংক্রান্ত এ ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করেন নগরপাল সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার কেবল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবার ও সংবাদ মাধ্যমের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে এ ফাইলের সিডি। নগরপালের হাত থেকে এই সিডি সর্বপ্রথম গ্রহণ করেন বসু পরিবারের সদস্য তথা প্রাক্তন এমপি কৃষ্ণা বসু ও চন্দ্র বসু। এরপরে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের হাতে এই সিডি তুলে দেয়া হয়। আগামী সোমবার থেকে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ এই ভিত্তিতে নেতাজির গোপন ফাইলের সিডি আমজনতার হাতে তুলে দেয়া হবে বলে ঘোষণা করেন নগরপাল সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ।
এদিকে, দুপুর ১২টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের মিউজিয়ামে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুসংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতাজিসংক্রান্ত ফাইল রাজ্যের আর্কাইভে আছে, এই বিষয়টি নজরে আসার পরে আমি প্রকাশ্যে এনেছি। আমরা নেতাজির জš§দিন জানি। কিন্তু, তার মৃত্যু নিয়ে বাস্তবে কী হলো, তা আমরা জানি না। আমরা জানতে চাই বাস্তবে কী হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ছেলেবেলা থেকে আমার বিশ্বাস ছিল সত্য একদিন সামনে আসবে। এখন সে সময় এসেছে।
অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পুলিশ কমিশনার ও নেতাজির পরিবারের মানুষজন। ফাইল প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানান, আমাদের কাছে নেতাজিসংক্রান্ত যেসব ফাইল ছিল সব প্রকাশ করা হলো। নেতাজি কোনো পরিবারের নয়, নেতাজি গোটা ভারতবাসীর। মমতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে মনে হয়, দুর্ভাগ্য বলুন আর ইরিটেশন বলুন, তিনি যে হারিয়ে গেলেন, কেউ বললেন বিমান দুর্ঘটনা, কেউ বললেন তিনি হারিয়ে গেছেন, এ নিয়ে সত্য জানুন আপনারা। তিনি আরো বলেন, ‘৭০ বছর ধরে নেতাজি অন্তর্ধান নিয়ে এখন যে রহস্য থেকে গেল এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।
কৃষ্ণা বসু জানান, প্রথমত রাজ্য সরকার ও মমতাকে ধন্যবাদ ফাইলগুলো প্রকাশ করার জন্য। তবে কেন্দ্রের হাতে থাকা ফাইলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে ফাইলগুলো প্রকাশ না করা ঠিক নয়। এর ফলে বিভিন্ন গল্প ও গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি আরো জানান, স্বাধীনতার আগের ফাইলগুলো মাথা ঠাণ্ডা করে পড়তে হবে।
১২ হাজার ৭৪৪ পাতার ৬৪টি ফাইল। কলকাতা পুলিশ মিউজিয়ামে ফাইলগুলো রাখা হয়েছে। ফাইলগুলো মূলত ১৯৩৭-৪৭ সালের। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ফাইলে এমন কোনো বিমান দুর্ঘটনার উল্লেখ নেই। তবে কীভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল তাকে? ব্রিটিশরাই বা তাকে কী চোখে দেখতেন? হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর এ ফাইলগুলো থেকে পাওয়া যাবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য কৃষ্ণা বসু বলেন, নেতাজিসংক্রান্ত গোপন ফাইল প্রকাশ করা মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপ। তার এই পদক্ষেপে আমি খুশি। কেন্দ্রের কাছে এ ধরনের আরো ১৫০টি ফাইল আছে। কেন্দ্রেরও উচিত এক্ষেত্রে মমতার পদাঙ্ক অনুসরণ করা।
এদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সুভাষ চন্দ্র বসুসংক্রান্ত ফাইল নষ্ট করে দেয়ার ঘটনার তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেন বসু পরিবারের এ সদস্য। ব্রিটিশ পুলিশ তো বটেই, স্বাধীনতার পর নেহরুর পুলিশও সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের ওপর নজর রাখত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে থাকা সুভাষ চন্দ্র বসুসংক্রান্ত ৬৪টি গোপন ফাইল থেকে প্রাথমিকভাবে এ তথ্যই সামনে আসছে। ১৯৫০ সালে মৃত্যু হয় সুভাষ চন্দ্র বসুর দাদা শরৎচন্দ্র বসুর। জানা যাচ্ছে, আমৃত্যু নজরদারি চলেছিল তার ওপরেও।
ফাইল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে শুধু বলেছেন, ভালো-মন্দ কিছু বলব না, শুধু বলব নেতাজি এবং তার পরিবারকে নিয়ে স্বাধীনতার পরেও অনেক কিছু ঘটেছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। কিছু চিঠি থেকে মনে হচ্ছে, ১৯৪৫-এর পরেও জীবিত ছিলেন নেতাজি। আমি চাই সত্য উদ্ঘাটিত হোক।
নেতাজি পরিবারের অন্য সদস্য চন্দ্র বসু দাবি করেন, হাওড়া সিআইডির একটি ফাইল অনুযায়ী, চল্লিশের দশকের শেষ দিকে নেতাজিকে রাশিয়া এবং চীনে দেখা গেছে। মার্কিন এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, তিনি নতুন একটি সেনাবাহিনী নিয়ে দেশে ঢুকতে চেয়েছিলেন।
বসু পরিবারের এক সদস্য অভিজিত রায় বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এই ফাইলগুলোর মধ্যে একটি নথিতে জানা যাচ্ছে যে, সুভাষ চন্দ্র তাইহোকুতে কথিত বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হননি এবং তিনি যে ১৯৬৪ সালেও জীবিত ছিলেন, সেটারও একটা প্রামাণ্য নথি রয়েছে।
রায়ের অভিযোগ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জওহরলাল নেহরু, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় এবং আরেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় নষ্ট করে ফেলেছেন রাজনৈতিক কারণে। এর ফলে সুভাষ চন্দ্র সম্পর্কিত অনেক তথ্যই হারিয়ে গেছে।
এছাড়াও আজাদ হিন্দ ফৌজের সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈন্য সবার বিষয়ে গোয়েন্দাদের রিপোর্ট রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Easterns 154/10 & 184/10 v Namibia 122/3 & 128/10 *

KwaZulu-Natal 140/10 & 158/4 * v North West 188/10 & 135/10

West Indies A 137/10 v Sri Lanka A 294/10 & 213/6 *

Hong Kong 142/10 v Afghanistan 270/2 *

Mis Ainak Region 167/10 v Band-e-Amir Region 202/3 *

Speen Ghar Region 311/2 * v Amo Region

Bangladesh A v Ireland A

Western Australia v South Australia

Zimbabwe v West Indies

Limpopo Women v Easterns Women

South Western Districts Women v Eastern Province Women