যুবদলের ১১ জনের পরিকল্পনায় অধ্যাপক শফিউল খুন !

রাজশাহী:
যুবদল নেতার স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিশোধ নিতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনকে খুন করা হয়। রাজশাহীর কাঁটাখালী পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে খুনের অপারেশন পরিচালিত হয়। এই খুনের মিশনে অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন। এদের মধ্যে ৬ জনকে র‌্যাব আটক করেছে। আটকরা হলেন রাবি ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টু, কাঁটাখালী পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক, ইব্রাহিম খলিল বাবু, সবুজ শেখ, আল মামুন ও সিরাজুল ইসলাম কালু। খুনের মিশনে অংশ নেয়া আরিফ, সাগর ও জিন্নাহ পুলিশের হাতে আগেই গ্রেফতার হয়েছে। এই খুনের নির্দেশদাতা রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও যুবদল নেতা হুন্ডি ব্যবসায়ী জামাই বাবু পলাতক রয়েছেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, শনিবার রাতে রাজশাহী ও গাজীপুরের টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে এই ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, ছুরি ও হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আটক ৬ জনকে হাজির করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান, উপ-পরিচালক মেজর রুম্মন ও সহকারী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাকসুদ।
হত্যার পরিকল্পনা: ২০০৩ সালের রাবি ছাত্রদল শাখার সহ-সভাপতি হন আবদুস সামাদ পিন্টু। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪৪ জন কর্মচারীর গণনিয়োগ হয়। পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার রেশমা প্রশাসন ভবনের হিসাব শাখার সেকশন অফিসার নিয়োগ পান। রেশমা মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের ভাতিজি। র‌্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনার ১০-১৫ দিন পূর্বে পিন্টুর স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে অধ্যাপক শফিউল অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে পিন্টুর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পিন্টু শিক্ষককে শায়েস্তা করার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের কাছে ক্ষোভের কথা জানান। উজ্জ্বল বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক অধ্যাপক শফিউলের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তাদের মধ্যেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং উজ্জ্বল নিজেও অপমানিত বোধ করে শিক্ষককে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার ৮-১০ দিন আগে একটি চায়ের দোকানে মানিক, উজ্জ্বল ও পিন্টু চা খান। সেখানে পরিকল্পনা হয় অধ্যাপক শফিউলকে শায়েস্তা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উজ্জ্বল ও পিন্টু তারই পরিচিত কাঁটাখালী পৌরসভার যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিককে দায়িত্ব দেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়: গত ১৫ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেসরকারি আবাসিক এলাকা বিহাস সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকার আতাউরের বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তায় অধ্যাপক শফিউলের পথরোধ করেন মানিক ও তার সহযোগীরা। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সবুজ শেখ শিক্ষকের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। সবুজের চাপাতির কোপে শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর পিন্টু ও মানিক এই কোপ দেয়ার প্রতিবাদ করেন। কিন্তু এই প্রতিবাদের পরও যখন তারা দেখতে পান যে স্যার তাদের চিনে ফেলেছে তখনই মামুন, আরিফ, বাবু ও কালু চাপাতি, হাসুয়া ও চাকু নিয়ে অধ্যাপক শফিউলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

E

h

E

h