রাজন হত্যা মামলায় কামরুলসহ ৪ জনের ফাঁসি

সিলেট:
সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কামরুলসহ ৪ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়ার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না, জাকির হোসেন ওরফে পাবেল ওরফে রাজু (পলাতক) ও তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল।
এ ছাড়া ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদের যাবজ্জীবন এবং প্রধান আসামি কামরুলের ভাই মুহিদ আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে (পলাতক) ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনজন। তারা হলেন রুহুল আমীন, ফিরাজ আলী ও আজমত উল্লাহ।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মাশরুর চৌধুরী শওকত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে শিশু রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও মা লুবনা বেগমও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান হাবিব রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবকণ্ঠকে বলেন, পূর্ণ কপি পাওয়ার পর আমরা উচ্চআদালতে আপিল করব।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এ রায়ে সন্তুষ্ট আমরা।
গত ৮ জুলাইয়ের ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর পর মাত্র ১৭ কার্যদিবসে ঘোষিত হলো দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল মামলার বিচার। গত ১ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে। তবে মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের আইনজীবীর আবেদনে ১১ সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি শোনে আদালত। ২১ অক্টোবর শেষ হয় পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণ। ২৫ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৭ অক্টোবর বিচারক রায়ের দিন ঠিক করে দেন। গতকাল বেলা ১টার দিকে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। এর আগে চার্জশিটভুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে কারাবন্দি ১১ জনের উপস্থিতিতে বেলা সাড়ে ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর অপবাদ দিয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ঘাতকরা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়।
গত ৮ জুলাই রাজনকে হত্যার পর দুপুরে লাশ গুম করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মুহিত। স্থানীয়দের দাবি একই সময় তারা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামকে ধাওয়া করেন। কিন্তু পরে সে পুলিশের সহযোগিতায় সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কামরুলসহ অভিযুক্তদের নামে মামলা করতে গেলে এসএমপির জালালাবাদ থানা পুলিশ শিশু রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এমন অভিযোগে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে গত ১৪ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্ধিত সময়ে গত ২৪ জুলাই ৪২৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, মামলার বাদী এসআই আমিনুল ইসলাম, এসআই জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওসি আলমগীরকে ২৭ জুলাই ও দুই এসআইকে ২৪ জুলাই বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনার পর পরই সৌদি আরব পালিয়ে যান মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবর তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। তার উপস্থিতিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ১১ সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর একটানা তিন দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। গতকাল আদালত আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

England 184/10 & 235/6 * v Pakistan 363/9

Armed Police Force Club 166/4 * v Province Number 4 239/9

Province Number 6 77/10 * v Province Number 7 125/10

Matabeleland Tuskers 39/4 * v Mid West Rhinos

Rising Stars 159/5 * v Mountaineers

Leicestershire v Yorkshire

Northamptonshire v Durham

Nottinghamshire v Warwickshire

Worcestershire v Lancashire

Essex v Surrey

Gloucestershire v Sussex

Hampshire v Kent

Somerset v Middlesex

Chennai Super Kings v Sunrisers Hyderabad