রাজশাহীতে গা বাঁচাতে দল বদলাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতারা, ক্ষুব্ধ তৃনমুল আ’লীগ, ১৪ দলে অসন্তোষ

রাজশাহী:

রাজশাহীতে পুলিশ হত্যাসহ নাশকতা মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা দল বদলাচ্ছে। বিপদ এড়াতে তারা দল ছেড়ে তারা ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন। আর এনিয়ে আওয়ামীলীগের তৃনমুলে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। অন্যদিকে, নাশকতার সাথে জড়িতদের দলে ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে ১৪ দলীয় জোটে বিভেদ দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ তারাও।
ভোটকেন্দ্র পোড়ানো, হামলা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মামলার আসামী জেলার চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বাচ্চুকে গতমাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফুল দিয়ে দলে বরণ করে নেন। আর এর বিনিময়ে তিনি পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়ার সুযোগ পান। ভোট কেন্দ্র পোড়ানোর আসামী হয়েও তিনি ছিলেন ধরপাকড়ের বাইরে। চারঘাট থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। পুলিশ পাহারায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঐ অনুষ্ঠানে বাচ্চু ছাড়াও বিএনপি জামায়াতের আরো বেশ কিছু নেতা কর্মী দল বদল করেন।
নাশকতা মামলার আসামী হওয়ায় রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ একই মামলার আসামী হয়েও বিএনপি ঘরানার বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আছেন বহাল তবিয়তে। অনেকেই প্রকাশ্য ঘুরছেন, নগরভবনে যাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, এই সুবিধা পেতে বিএনপি ঘারানার কাউন্সিলররা আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সমঝোতা করেছেন। গত রমযান মাসের এক রাতে বিএনপি ঘরানার অন্তত ১০ জন কাউন্সিলর আওয়ামীলীগের রাজশাহী মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসায় গিয়ে তার সাথে সাক্ষাত করে আসেন। ঐ সময় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এসব কাউন্সিলর আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। কিন্তু দুই পক্ষ থেকেই বলা হয়, খায়রুজ্জামান লিটন সাবেক মেয়র হিসেবে কাউন্সিলররা তার সাথে দেখা করেছেন এবং নগরীর উন্নয়ন তরান্বিত করার বিষয়ে কথা বলেছেন। ঐ রাতের আগে ঐসব কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকলেও এর পর থেকে তাদের দেখা মিলে প্রকাশ্যই। নগর ভবনে যাওয়াও শুরু করেন তারা। এদিকে, এরই মধ্যে কয়েকজন কাউন্সিলর আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন। তবে, তবে, সমালোচনা এড়াতে এসব যোগদান হয়েছে একেবারেই গোপনীয়ভাবে। কোন ধরনের প্রচার হয়নি। যোগদানের কোন ছবিও উঠাতে দেয়া হয়নি। তবে, নিজেদের সংরক্ষনের জন্য ছবি উঠানো হয় সিনিয়র নেতাদের ক্যামেরায়।
পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ হত্যামামলা ছাড়াও গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতা চার মামলার আসামী ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরর তরিকুল ইসলাম পল্টু গত সোমবার রাতে নগর আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ফুল বিনিময় করে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও ঐ অনুষ্ঠানে নগর সম্পাদক ডাবলু সরকার  ও বেশ কয়েকজন নগর নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, এটিকে ঠিক যোগদান বলা যাবেনা। তিনি বলেন, সোমবার রাতে কাউন্সিলর পল্টু দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন এটা সত্য। নেতাকর্মীদের সাথে তিনি কথা বলেছেন। তিনি এসে জানিয়েছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে চান, এপর্যন্তই। যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়নি।
পল্টুর আগেচলতি মাসে আরো অন্তত ২জন কাউন্সিলর আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন। এরা হলেন, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর টুনু ও ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিুবুর রহমান। এই দুই কাউন্সিলরও গাড়ি পোড়ানোসহ একাধিক নাশকতা মামলার আসামী ছিলেন। একটি মামলায় কাউন্সিলর টুনুকে পুলিশ আটকও করে। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরই তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেন।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রায় সবগুলো উপজেলাতেই বিএনপি জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা মামলা এড়াতে অথবা নিজের প্রভাব ধরে রাখতে দল বদল করছেন। আর এসব নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দায়ি করা হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের। এনিয়ে তৃনমুলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তারা অভিযোগ করছেন এমপিরা বিএনপি-জামায়াত নির্ভর হয়ে পড়েছেন। দলের ত্যাগি নেতা কর্মীরা এখন উপেক্ষিত। ক্ষোভের কথা স্বিকার করে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, নতুন করে দলে যোগ দিয়ে যখন ক্ষমতা খাটাবে তখনতো দলের ত্যাগি নেতারা ক্ষুব্ধ হবেনই। আর নাশকতা মামলার আসামীদের দলে যোগ দেয়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। সুযোগও নেই।  তিনি বলেন, দলকে গতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে এটি যেমন ঠিক, তেমনি বিএনপি জামায়াতের যারা সন্ত্রাসী তাদেরকে কোন অবস্থানেই দলে নেয়া হবেনা এটি জেলা আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশনা আছে। আমাদের দলীয় রেজুলেসন হয়েছে যে কারা কিভাবে দলে যোগ দিতে পারবেন। এব্যাপারে কেউ দলে যোগ দিতে চাইলে তাকে তৃনমুলেই আবেদন করতে হবে।
বিএনপি জামায়াত নেতাদের আওয়ামীলীগে ভেড়ানোর ফলে বিভেদ তৈরী হয়েছে ১৪ দলীয় জোটেও। নাশকতা মামলার আসামীদের দলে ভেড়ানোতে আত্মঘাতি বলেও মনে করছেন জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। তিনি বলেন, আমরা মনে করি আওয়ামীলীগ যে পথে যাত্রা শুরু করেছে সেই পথ থেকে ফিরে আসা উচিত এবং এই বিষয়টা ১৪ দলেই ফয়সালা হওয়া উচিৎ। জোটের আগামী সভাতে বিষয়টি উঠানো হবে বলে জানিয়ে বাদশা বলেন,  আওয়ামীলীগ তাদের দলের দরজা খুলে দিয়েছে। এর ফলে জঙ্গীবাদ জামায়াত এবং বিএনপির সন্ত্রাসীরা হুড় হুড় করে আওয়ামীলীগে ঢুকে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগৈরতো একটা রাজনীতি আছে একটা আদর্শ আছে সেটা বিশ্বাস করি বলেই আমরা ১৪ দলীয় জোট করেছি। যারা ঢুকছে তারা কারা? তারাই যদি আজকে মুল নেতৃত্ব হয়ে দাঁড়াই তাহলে সেই আওয়ামীলীগতো আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারবেনা। আওয়ামীলীগ যে দরজা খোলা নীতি গ্রহন করেছে সেটা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। ১৪ দলের বৈঠকে আমরা তুলবো। যারা পুলিশ হত্যার আসামী, পেট্রোল বোমা মারার আসামী তারা আজকে আওয়ামীলীগ সদস্য পদ সংগ্রহ করছে। তাহলে গত তিন বছরে যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হলো সেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায় দায়িত্ব কি আওয়ামীলীগ নিজের কাঁধে নিতে চাচ্ছে ?  এটা আত্মঘাতি ব্যাপার হবেনা ?

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Essex 206/10 v Nottinghamshire 380/10 & 35/1 *

Glamorgan 283/10 v Derbyshire 207/3 *

Kent 359/6 & 197/10 * v Warwickshire 125/10

Leicestershire/1 & 427/10 * v Middlesex 233/10

Surrey 459/10 v Somerset 180/10 & 18 *

Sussex 552/10 v Durham 202/4 *

Worcestershire 361/4 & 247/10 * v Lancashire 130/10

Northamptonshire 282/10 v Gloucestershire 155/5 & 62/10 *

Hampshire 153/3 * v Yorkshire 350/10

England 100 * v Australia 310/8