রাজশাহীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মোহনপুরে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

রাজশাহী:
রাজশাহীতে মোহাম্মদ লিটন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহিষপুর থানার পৈলান্ত গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে কাশবন থেকে রাজপাড়া থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত লিটন শাশুড়িকে চিকিৎসা করাতে রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, জেলার মোহনপুরে পুকুর থেকে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নিহতের স্বামী ও ভাসুর পলাতক রয়েছে।
রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, পদ্মানদীর পাড়ের ঘটনাস্থল থেকে নিহত লিটনের মোবাইল ফোন ও বেশকিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক আলামতে এটা নিশ্চিত যে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া অণ্ডকোষের নীচে ছুরিকাঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনুমান করা হচ্ছে হয়তো অন্য কোথাও লিটনকে খুন করে নদীর পাড়ে তার লাশ ফেলে গেছে দুবৃর্ত্তরা। তবে নিহতের চাচা শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
নিহত লিটনের চাচা শ্বশুর জহুরুল ইসলাম জানান, শনিবার লিটন তার শ্বাশুড়িকে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনিও তার সাথে ছিলেন। ডাক্তার দেখানোর পর বিকেলে লিটন একাই রাজশাহী শহর দেখতে বের হন। সন্ধ্যায় পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রোববার সকালে শ্রীরামপুর এলাকায় লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং লিটনের লাশ শনাক্ত করেন।
মোহনপুরে পুকুর থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
এদিকে, রাজশাহীর মোহনপুরে তিন সন্তানের জননী রাশিদা বেগম নামে এক গৃহবধূর লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে স্বামী আব্দুর রহমান ও ভাসুর পলাতক রয়েছেন। রোববার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার চান্দোপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধুর ভাই আমজাদ হোসেন দাবি করেন, উপজেলার চান্দোপাড়া গ্রামের গ্রামের মহির উদ্দিনের মেয়ে রশিদা বেগমের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। সংসার করা অবস্থায় দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদির করে বিরোধ চলে আসছিল। স্বামী আব্দুর রহমানকে সহযোগিতা করতেন বড় ভাই রমজান আলী। গত শনিবার ছেলে মহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে একই উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের খালাতো ভাইয়ের বাড়ি দাওয়াত খাওয়া জন্য যায়। ওই সুযোগে স্বামী আব্দুর রহমান ও ভাসুর রমজান আলী মিলে গত শনিবার রাতে রশিদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পাশে পুকুরে লাশ ভাসিয়ে দেয়।
রাজশাহীর মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হামিদ জানান, নিহত গৃহবধুর শরীরে কোন আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় খানায় ইউডি মামলা হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

West Indies 300/10 v Sri Lanka 334/8 & 253/10 *

Hampshire 316/6 * v Yorkshire