রাজশাহীতে শ্রীলংকাকে ১-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ

রাজশাহী:
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশের ফুটবলাররা। রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে খেলার প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে গোল পায় টাইগাররা। এর পর দু’দলই বেশ কটি চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ১-০ গোলে জয় পায়।
খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মামুনুল হাসানকে পেনাল্টি বক্সে অবৈধভাবে বাধা দেয় লঙ্কান রক্ষণভাগের খেলোয়াররা। এর সুবাদে জুটে যায় পেনাল্টি। এমিলির কিকে পেনাল্টিতে কাক্সিক্ষত গোল পায় বাংলাদেশ। এর পর দেকেই গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে লঙ্ককানরা । আর গোল ব্যবধান বাড়াতে জোর চেষ্টা চালায় টাইগাররা। ২৭ মিনিটে পাওয়া একটি ফ্রি কিকে লঙ্কান অধিনায়ক নাকালা রৌশনের সর্ট গোল পোস্টে লেগে মাঠে ফিরে যাওয়ায় শ্বাসরুদ্ধকর এ ম্যাচে অল্পের জন্য সমতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি অতিথি শ্রীলঙ্কানরা। তবে এরপর রাজশাহীর মাঠে খেলার পুরোটা সময় দাপটে ফুটবল উপহার দেয় লাল-সবুজরা। দ্বিতীয়ার্ধের খোলায় লঙ্কান রক্ষণভাগে বার বার হানা দেয় হাজার হাজার দর্শকের করতালিতে উজ্জীবিত বাংলাদেশ। তবে মামুনুল-এমিলিরা একাধিবার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারায় বড় জয় পায়নি বাংলাদেশ। ১ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধ শেষ করে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এদিকে, ফুটবলের প্রতি রাজশাহীর দর্শকদের ভালোবাসার যে তিলমাত্র ঘাটতি নেই তা প্রমাণ হয়েছে । ২২ হাজার ধারণ ক্ষমতার রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম খেুা শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেবল স্টেডিয়ামের ভেতরে বসেই উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচ উপভোগ করেছে ধারণ ক্ষমতার থেকে বেশি কয়েক হাজার দর্শক। ভীড় উপচে জনতার মোহনায় পরিণত হয় স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকাও।
জিমনেসিয়াম ভবনসহ আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদগুলোতে উঠে স্টেডিয়ামে দৃষ্টি রাখে অনেকই। ঝুঁকিকে পেছনে ফেলে নিজের দেশের খেলা দেখার আগ্রহ তরুণদের তুলেছিল গাছের ডগায়, ডাল-পালায়। গাছ না পেয়ে অনেকে আবার স্টেডিয়ামের চারপাশের ফ্লাডলাইট পোস্টগুলোতে চড়ে বসেন। বাদুর ঝোলা হয়েই উপভোগ করেন আন্তর্জাতিক এ ম্যাচ। স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশ শুরু হয় বেলা ১২টায়। তবে এর আগে থেকে হাজারো তরুন ফুটবল ভক্ত ভীড় জমায় স্টেডয়ামের বাইরে। বেলা ৩টায় খেলা শুরুর সাথে সাথে স্টেডিয়ামের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় অনেক ফুটবল দর্শক ও সাংবাদিক টিকেট ও পাস থাকা সত্বেও ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হন। এ সময় মূল গেটে দর্শকদের লম্বা লাইন ছাড়িয়ে যায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কেও। দক্ষিণ দিকের গেটের বাইরে থাকা দর্শকদের সঙ্গে এ নিয়ে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া ভিআইপি টিকেট নিয়েও ভিআইপি গ্যালারিতে বসার কোনো জায়গা না পেয়ে ফিওে গেছেন অনেকেই। এমনকি রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও আসন না পেয়ে স্টেডিয়াম থেকে ফিরে যান।
রাজশাহীর ফুটবলে বর্তমানে দুর্দিন চলছে। অনিয়মিত হয়ে পড়েছে লিগ খেলা। আর বড় কোনো আসরের দেখাই মিলছে না বিভাগীয় এ শহরে। ১৯৯২ সালে এশিয়ান যুব ফুটবলে বাছাইপর্ব আসরই ছিল এখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ টুর্নামেন্ট। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীবাসী গতকাল নিজেদের মাঠে বসে মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ-শ্রীলংকার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচটি দেখেন। দীর্ঘগদিনের এই খরার কারণে ফুটভল ভক্তরা মুলত ভিড় জমায় স্টেডিয়ামে। ভক্তরা বলছেন এতদিনের খরা কাটিয়েছে এই ম্যাচটি। #

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

West Indies 300/10 v Sri Lanka 334/8 & 253/10 *

Hampshire 316/6 * v Yorkshire