রাজশাহী কলেজের তিন ছাত্রকে মারপিট করেছে পুরাতন বই বিক্রেতারা, প্রতিবাদে ভাংচুর

রাজশাহী মহানগরীর সোনাদিঘীর মোড় এলাকায় রাজশাহী কলেজের ছাত্রদের সাথে পুরাতন বই ব্যবসায়ীদের মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তিন ছাত্র আহত হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, সকালের দিকে সোনাদিঘীর মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের মালিকানাধীন পুরাতন বাইয়ের দোকানে “রাফান বই ঘর” রাজশাহী কলেজের অনার্স পড়–য়া দুই ছাত্র একটি বই বিক্রি করতে আসে। বইটি ছাত্ররা একশত টাকা দাবী করে। ওই দোকানের কর্মচারী সজিব ৩০ টাকা দাম দিতে চায়। এসময় ওই ছাত্র বই বিক্রি না করে চলে যেতে চাইলে দোকান কর্মচারী জিজ্ঞাসা করে শেষ কত টাকা হলে বইটি বিক্রি করবে। এমন প্রশ্ন শুনে ছাত্রটি দোকান কর্মচারীকে জানান তাদের বই কেনার ক্ষমতা নেই। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সজিব বলে বই সহ তাকে কিনে নেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। এই নিয়ে দোকান কর্মচারীর সাথে রাজশাহী কলেজের ওই দুই ছাত্রের তর্ক-বিতক হয়। এক পর্যায়ে দোকান কর্মচারী সজিব এক ছাত্রের গালে দুটি থাপ্পর মারে। এই ঘটনার পর আহত ছাত্রটি রাজশাহী কলেজে গিয়ে তার সহপাঠি ও সহকর্মীদের নিয়ে পুনরায় ওই বইয়ের দোকানে আসে। ওই সময় কর্মচারী সজিব দোকানে ছিল না। ছাত্ররা সবিজকে না পেয়ে দোকান মালিক মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের উপর চড়াও হয়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন ছাত্রদের শন্তি করার চেষ্টা করেন। তবে ছাত্রদের মধ্যে শান্ত নামের এক ছাত্র উত্তেজিত হয়ে দোকানের সাজানো বই গুলো ফেলে দেয় এবং তছনছ করে। পরে ক্ষুব্ধ ছাত্র শান্ত দোকানে একটি টেবিল ফ্যান ও একটি টুল ভাংচুর করে। ভাংচুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ কর্মী ও আলতাফ হোসেন ফুসে উঠলে ছাত্ররা সটকে পড়তে শুরু করে। এসময় অন্য বই ব্যবসায়ীরা ছাত্রদের মধ্যে দুইজনকে ধরে সাঠিসোঠা দিয়ে এলাপাথারী মারপিট করে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের কর্মী আলতাফ হোসেন জানান, যারা তার দোকানে হামলা চলিয়েছে তারা রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী। শান্ত নামের একজন ছাড়া বাকীদের চেনেন, তবে নাম জানেন না। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের তিনি (আলতাফ হোসেন) মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ করেন বলার পরে ছাত্ররা তাকে ও দলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। তার দোকান পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকী দেয়। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি তার পরেও ছাত্রলীগের কর্মীরা আমার উপর এতোবড় অত্যাচার করলো। প্রয়োজনে আমি এর প্রতিকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবো। তবে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি ঘোষ জানান. ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী এধরণের কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। শান্ত নামের কোন ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী নেই বলে তিনি দাবী করেন। ছাত্রলীগের নাম করে কেউ এধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

England Under-19s 46 * v India Under-19s 519/10

Nepal Under-19s 92/5 * v Malaysia Under-19s 89/10

Afghanistan Under-19s 305/6 v Singapore Under-19s 81/10 *

Ireland Under-19s 200/9 v Jersey Under-19s 30/3 *

Denmark Under-19s 18/3 * v Scotland Under-19s 249/7

Chepauk Super Gillies v VB Thiruvallur Veerans 67/5 *