রাবি অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলনকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে নিজের মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার বিহাসপল্লীর সামনের রাস্তায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শফিউল আলমের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার সোনাতলায়। তার পিতার নাম আক্তারুজ্জামান সরকার। তিনি রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাসায় একাকি বসবাস করতেন। তার একমাত্র পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র।
এদিকে, অধ্যাপক শফিউল ইসলামের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. প্রণব কুমার পান্ডে। এদিকে এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মেইন গেটের সামনে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর থেকে তারা রাজশাহী- ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার (সিএ) ডা. মমতাজ জানান, ‘অধ্যাপক শফিউল ইসলামের মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম ছিলো। ধরালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’ নিহত শিক্ষকের ভগ্নিপতি রফিকুল বারী মুকুল বলেন, তার ওপর জামায়াত-শিবির কর্মীরা হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা তিনি মাঝে মাঝেই তাদের বলতেন। মুকুল জানান, ড. শফিউল ইসলাম আগামি ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অধ্যাপক শফিউল ইসলাম যেখানে হামলার শিকার হয়েছেন, সেখান থেকে তার বাসার দূরুত্ব প্রায় একশ’ গজ বা একটু বেশি। গতকাল বিকেল তিনটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার পথে কে বা কারা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আততায়ীদের ফেলে রাখা যাওয়া একটি চাপাতি এবং অধ্যাপক শফিউলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। কারা এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত তা বলতে পারেনি পুলিশ।
ওসি জানান, ‘অধ্যাপক শফিউল একজন লালনভক্ত মানুষ ছিলেন। লালনকে নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন তিনি। পারিবারিক কিছু ঝামেলাও তার ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবরে জানা গেছে। তবে কারা কেন তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায় নি। বিষয়টি তদন্ত না করে বিস্তারিত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন জানান, অধ্যাপক শফিউল ইসলাম নিরিবিলি জীবন যাপন করতেন। তার কোনো শত্রু থাকতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। তবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করে তিনি বলেন, এর আগে ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। ওই হত্যাকান্ডের প্রকৃত মোটিভ পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি। উপাচার্যের দাবি, অধ্যাপক ইউনুস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হলে আজকে হয়তো অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে আমাদের এভাবে হারাতে হতো না। তিনি অধ্যাপক শফিউলের হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. প্রণব কুমার পান্ডে বলেন, প্রকাশ্য দিনের আলোয় এ ধরণের হত্যাকান্ড পরিকল্পিত ছাড়া কিছু নয়। এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে আজ রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। এরপর ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজ বাসায় খুন হন ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। এর মধ্যে তাহের হত্যা মামলায় একই বিভাগে শিক্ষক মহিউদ্দিনসহ চার জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে নি¤œ আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারধীন। অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনুস হত্যাকান্ডে জেএমবি সদস্যদের অভিযুক্ত করে রায় ঘোষণা করেছে নি¤œ আদালত।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mashonaland Eagles 231/10 & 519/7 * v Rising Stars 339/10

Mid West Rhinos 292/10 & 378/10 v Mountaineers 203/10 & 117/6 *

Derbyshire 118 & 265/10 * v Middlesex 157/10

Essex 150/10 & 313/10 * v Lancashire 144/10

Gloucestershire 236/10 v Glamorgan 296/5 *

Leicestershire 112/2 * v Sussex 438/8

Northamptonshire 147/10 & 41 * v Warwickshire 413/10

Somerset 202/10 & 255/9 * v Worcestershire 179/10

Surrey 211/10 & 217/4 * v Hampshire 147/10

Yorkshire 256/10 & 189/4 * v Nottinghamshire 188/10

Dambulla 73/3 * v Colombo 210/10

Galle 344/7 * v Kandy

Amo Region v Mis Ainak Region

Kabul Region v Band-e-Amir Region

Speen Ghar Region v Boost Region

South Africa Emerging Players Women v England Academy Women

Sunrisers Hyderabad v Chennai Super Kings

Rajasthan Royals v Mumbai Indians