‘সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় এক হন’ : জাতিসংঘে শেখ হাসিনা

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদকে মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এ দু’টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথের প্রধান অন্তরায়। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

নিউইয়র্কে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। খবর বাসস’র।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ জীবন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যত রেখে যাওয়ার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামষ্টিক অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে দারিদ্র্য, অসমতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার। আমার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি নিজেও কমপক্ষে ১৯ বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি।’

তার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত, সে সব চরমপন্থী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আমরা সদা তৎপর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা সেখানে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমাজে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতিষ্ঠিত না হলে আমরা টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করতে পারব না। এ জন্য আমরা শান্তি সমুন্নত রাখতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর। এ চেতনা থেকেই আমরা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, ধর্ষণ এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।’

তার সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সহনশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এ চর্চা আমাদের সামাজিক কাঠামোরই অংশ হয়ে উঠেছে। চার দশকেরও বেশি আগে, বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতায় শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও আগ্রাসনমুক্ত একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই উদাত্ত আহ্বান আজও আমাদের জাতীয় উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ততার পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগুচ্ছি যেখানে দারিদ্র্য, অসমতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে আমি রূপকল্প-২০২১ উপস্থাপন করেছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা একটি মধ্যম-আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নের পথে যেভাবে আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছি, তাতে আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল এবং সমুদ্র সীমানা সমস্যা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। ৩১ জুলাই মধ্যরাতে আমরা ভারতের সাথে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করেছি। যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার রাষ্ট্রবিহীন ছিটমহলবাসী তাদের পছন্দের রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পেরেছেন। তাদের দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে। এ কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি।’

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Border 361/10 v Namibia 157/10 & 54/2 *

Western Province 115/5 & 215/10 * v Northerns 188/10

Gauteng 306/6 & 149/10 v Boland 6 & 119/10 *

Guyana 116/1 * v Trinidad & Tobago 135/10

Barbados 261/2 * v Jamaica

Leeward Islands 93/2 * v Windward Islands 197/10

Australia 270/9 v England 274/6 *

Galle Cricket Club v Panadura Sports Club

Kalutara Town Club v Lankan Cricket Club 420/4 *

Negambo Cricket Club 178/10 v Police Sports Club 71/4 *

Sri Lanka Air Force Sports Club v Kurunegala Youth Cricket Club 188/5 *

Ragama Cricket Club 312/9 * v Bloomfield Cricket and Athletic Club

Saracens Sports Club 347/5 * v Colombo Cricket Club

Sinhalese Sports Club 199/10 v Moors Sports Club 124/7 *

Burgher Recreation Club 106/1 * v Sri Lanka Army Sports Club 232/10

Nondescripts Cricket Club 42 * v Badureliya Sports Club 147/8

Sri Lanka Ports Authority Cricket Club v Chilaw Marians Cricket Club 335/2 *

Bangladesh 320/7 v Sri Lanka 157/10 *

Cape Cobras 273/6 * v Lions

Dolphins 207/10 * v Warriors

Knights v Titans 309/8 *

Afghanistan Under-19s v Ireland Under-19s

Kenya Under-19s v West Indies Under-19s

Canada Under-19s v England Under-19s

New Zealand Under-19s v South Africa Under-19s

Melbourne Stars Women v Melbourne Renegades Women

Northern Districts v Central Districts

Sydney Thunder Women v Adelaide Strikers Women

Melbourne Stars v Sydney Thunder